তেরো
সিনেমাটায় একটা মজার সিন চলছে। নায়কের হাত-পা দড়ি দিয়ে কষেবাধা। নায়িকাকে ভিলেন নাচতে বলছে। নায়ক কোনোভাবেই নায়িকাকেনাচতে দিতে চায় না। নায়িকা নাচবে কি নাচবে না—এমন সময়ে বিচ্ছিরি একটা অ্যাড এসেসব মজা নষ্ট করে দিল। ৮ সেকন্ড আগে স্কিপ করারও জো নেই।
গল্প
Masud Shorif
4/14/20261 min read


বাইরে কনকনে শীত। অবশ্য ঘরের ভেতরে তা বোঝার উপায় নেই।ইট-সিমেন্টের বাড়িগুলো এত সুন্দর করে বানানো—দরজা-জানালা বন্ধরাখলে শীতের দিনেও গরম লাগে।
শহীদুল সাব সোফায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছেন। গা খালি। লুঙ্গিরগিঁটটা কোনোমতে লেগে আছে। পুরোনো বাংলা সিনেমা দেখছেনইউটিউবে।
স্ত্রী দুই ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি গেছে বেড়াতে। ওরা থাকলে বাংলাসিনেমা দেখতে দেয় না। আজ তাই চুটিয়ে সিনেমা দেখবেন।
কিছুক্ষণ পর পর সিগারেটে সুখটান দিয়ে ছাই ফেলছেন অ্যাশট্রেতে।
সিনেমাটায় একটা মজার সিন চলছে। নায়কের হাত-পা দড়ি দিয়ে কষেবাধা। নায়িকাকে ভিলেন নাচতে বলছে। নায়ক কোনোভাবেই নায়িকাকেনাচতে দিতে চায় না।
নায়িকা নাচবে কি নাচবে না—এমন সময়ে বিচ্ছিরি একটা অ্যাড এসেসব মজা নষ্ট করে দিল। ৮ সেকন্ড আগে স্কিপ করারও জো নেই।
অ্যাড স্কিপ করতে যাবেন এমন সময় ঠক ঠক শব্দ হলো দরোজায়।
এমনিই মেজাজটা খিঁচড়ে ছিল অ্যাড দেখে। নায়িকার নাচ দেখা দেরিহয়ে গেল। তার ওপর এই রাতদুপুরে কে কী চায়?
দারোয়ান না নিশ্চিত। দরকার হলে ইন্টারকমে ফোন দিত। আর বাইরেরকেউ তো এত রাতে আসতেই পারবে না।
শহীদুল সাব অ্যাডটা স্কিপ করলেন। নায়িকা নাচতে রাজি হয়েছে। নাহলে ভিলেন নায়ককে জানে মেরে ফেলবে।
ঠক ঠক ঠক—ফের দরজায় শব্দ! মুখটুখ কুঁচকে ভিডিওটা পজ দিয়েগেলেন দরজার কাছে। লুঙ্গির গিঁটটা ভালোমতো কষে নিলেন।
দরজার পিপহোল দিয়ে চেয়ে দেখেন কেউ নেই। নিশ্চয় কেউ ফাজলামিকরছে এত রাতে। কিন্তু বিল্ডিঙের সেক্রেটারির ফ্ল্যাটে কে এসে ইতংবিতংকরবে?
মনে মনে খারাপ একটা গালি দিয়ে আবার বসলেন সোফায়।
নায়িকা নাচা শুরু করেছে। ভিলেন দাঁত কেলিয়ে হাসছে। অসহায় নায়কচোখমুখ বুজে সহ্য করছে। ভীষণ মজা পাচ্ছেন শহীদুল সাব।
দরজাটায় এবার রীতিমতো হাতুড়ি পিটিয়ে শব্দ হলো। শহীদুল সাবআঁতকে উঠলেন।
কিন্তু মুহূর্তেই নিজেকে সামলে ছুটে গেলেন দরজার দিকে। সপাং খুলেফেললেন দরজা। একঝাঁক ঠান্ডা এসে গায়ে বিঁধল হুড়মুড় করে। শহীদুলসাবের শীত শীত করছে।
একটা বাতি নেভানো বলে তেমন আলো নেই করিডোরে। কিন্তু কোথাওতো কাউকে দেকা যাচ্ছে না।
একটু পরেই খেয়াল করলেন, লিফটের পরে সিঁড়ির কাছ থেকে আবছাএকটা অবয়ব আসছে।
দেখে মনে হচ্ছে ৮-৯ বছরের মেয়ে। এই ঠান্ডাতেও পরনে কেবল একটাজামা। কেমন তেল চিটচিটে কাদা রঙের ফ্রক। মেয়েটার চুলে সুন্দর করেঝুটি বাধা।
শহীদুল সাব চেঁচিয়ে উঠলেন, “অ্যাই কে রে? কে তুমি?”
মেয়েটা কোনো জবাব দিল না। সে হেঁটে আসছে ছায়ার মতো। অন্ধকারেভালো বোঝা যাচ্ছে না চেহারা। মনে হচ্ছে কেউ জলরঙে মুখ এঁকেরেখেছে ঘোলা করে।
কাছে এসে খয়েরি-কালো হাতটা বাড়িয়ে দিল শহীদুল সাবের দিকে।
হাতে একটা পুরোনো জং ধরা রুপোলি রঙের ঘড়ি।
মেয়েটা ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, “আপনার আব্বা পাঠিয়েছেন।”
শহীদুল সাবের বাবা মারা গেছেন আজ বছর পাঁচেক। এই মেয়ে কোত্থেকেএসে কীসব আজগুবি বকছে। তিনি ধমকে উঠলেন, “ফাইজলামি হচ্ছে? কোন ফ্ল্যাটে থাকো তুমি?”
মেয়েটা নড়ছে না। তার হাতটা পুরোনো চিকন বাঁশের মতো। এখনো হাতবাড়িয়ে রেখেছে। হাতে ঘড়ি।
মেজাজ চরমে উঠল শহীদুল সাবের। তিনি ঘড়িটা নিয়ে সাঁই করে ছুড়েমারলেন।
কিন্তু কী অদ্ভূত! মেয়েটার হাতে আবার কোত্থেকে যেন আরেকটা ঘড়িচলে এসেছে।
এই প্রথম শহীদুল সাব একটু ঘাবড়ে গেলেন। টের পেলেন শরীর হালকাহালকা ঘামছে। শীতের সেই তোপটা আর লাগছে না এখন।
তিনি ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলেন। মনে করতে চাচ্ছেন তিনি স্বপ্নদেখছেন। কিন্তু টিভিতে তো ভিডিওটা ঠিকই পজ হয়ে আছে। নায়িকাএকটা বিশেষ ভঙ্গিতে থেমে আছে।
দরজায় এবার ধ্রিমধ্রাম শব্দ হলো। শহীদুল সাবের বুকের ভেতরেও যেনএবার হাতুড়ি পেটানোর শব্দ হচ্ছে। তার টেকো মাথা ঘেমে গেছে।
তিনি কাঁপা কাঁপা হাতে দরজা খুললেন। সেই চিকন বাঁশের হাত ঘড়িটাধরে আছে। কাঁপা কাঁপা আঙুলে নিলেন ঘড়িটা।
কোনোমতে দরজাটা লাগিয়ে তিনি সোফায় এসে বসলেন। বড্ড গরমলাগছে। কিন্তু এই মুহূর্তে উঠে গিয়ে ফ্যান চালু করার মতো অবস্থায় নেইতিনি।
তিনি ভয়ে ভয়ে ঘড়িটার দিকে তাকালেন। হৃদপিণ্ড যেন গলায় এসেঠেকল ঘড়ি দেখার পর।
পুরো ঘড়িটা সাদা। সেখানে কালো অক্ষরে শুধু একটাই নাম্বার—তের।ঘড়িতে তেরটা বাজে।
শহীদুল সাব ঘড়িটা ছুড়ে ফেলতে চাইলেন। হাত ঝাড়া দিলেন। কিন্তুঘড়িটা পড়ে না।
তিনি আবার ঝাড়া দিলেন। মনে হলো ঘড়িটা যেন তার তালুর সাথেআঠা দিয়ে লাগানো।
তিনি বাঁ হাত দিয়ে ওটা টেনে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু ওটা ছুটছেনা। চামড়ার সাথে মিশে গেছ যেন।
অনেক দিন আগে হলিউডের একটা সিরিজে দেখেছিলেন, কী যেন একটাডিভাইস হাতের সাথে শেকড় গজিয়ে লেগে যায়। শহীদুল সাবের সেইকথা মনে পড়ল এখন।
তিনি দৌড়ে রান্নাঘরে গেলেন। কিচেন সিঙ্ক থেকে জালি নিয়ে ঘষেওঠানোর চেষ্টা করলেন। কিছুই হচ্ছে না। যেন ওটা তার নিজের শরীরেরইঅংশ।
শহীদুল সাব বেডরুমে ঢেকে এসি চালু করলেন। ১৮ দিলেনটেম্পারেচার। তিনি দরদর করে ঘামছেন। মনে হচ্ছে পাগল হয়ে গেছেন, নয়তো স্বপ্ন দেখছেন।
শুনেছিলেন স্বপ্নে চিমটি কাটলে স্বপ্ন ভেঙে যায়। তিনি জোরে চিমটিকাটলেন হাতে। ব্যথা হলো; কিন্তু স্বপ্ন ভাঙল না।
ঘড়িতে এখনো তেরটাই বাজে।
"তেরো... তেরো..." শহীদুল সাব বিড়বিড় করলেন। "কেন তেরো? আব্বাকেন তেরো পাঠাবে?"
বাবার কথা মনে পড়তেই তার বুকটা মোচড় দিল।
তার বাবা ছিলেন অসম্ভব নীতিবান মানুষ। খেতি-খামারি করতেন।কষ্ট-সুখে একভাবে চালিয়েছেন সংসার। দুই ছেলেকে মানুষ করেছেন। শহীদুল যখন সরকারি চাকরিতে ঢোকেন, বাবা শুধু বলেছিলেন, "বাবারে, মানুষের হক মারিস না। ওপরওয়ালা সব দেখেন।"
শহীদুল সাব বাবার কথা রাখেননি। তিনি জানেন, এই শহরে, এইসিস্টেমে সৎ থাকা মানে বোকামি। সবাই খাচ্ছে, তিনি খেলে দোষ কী? টেবিলের নিচ দিয়ে একটু-আধটু কাজ করিয়ে নেওয়া তো এখন নিয়ম।
শহীদুল সাবের চোখ আবার গেল ঘড়িতে। ‘তেরো’ সংখ্যাটা তাকেখোঁচাচ্ছে।
তেরো... তেরো...।
হঠাৎ তার মনে হলো, ঘড়ির ডায়ালের ভেতর তিনি একটা মুখ দেখতেপাচ্ছেন। একটা বয়স্ক মতন মানুষের। লোকটার নাম... নামটা কী যেন? সোবহান? হ্যাঁ, সোবহান সাব।
ঘটনাটা গত সপ্তাহের। সোবহান সাব এসেছিলেন তার পেনশনেরফাইলটা রিলিজ করাতে। রিটায়ার্ড ভদ্রলোক। টেবিলে ফাইলটা রেখেমিনমিন করে বলেছিলেন, "স্যার, আমার হার্টের অপারেশন সামনেরমাসে। এই টাকাটা পেলে বড় উপকার হতো। আমি তো সব কাগজ ঠিকইদিয়েছি।"
শহীদুল সাব ফাইলটা উল্টেপাল্টে দেখেছিলেন। সব ঠিকই ছিল। কিন্তুঅভ্যাস-দোষে বলেছিলেন, "কাগজ তো ঠিকই আছে, কিন্তু প্রসেসিংয়েরএকটা খরচ আছে না? লাঞ্চের খরচ, পিওনদের বকশিশ..."
বয়স্ক লোকটা অসহায় চোখে তাকিয়ে ছিলেন, "স্যার, আমার কাছে তোবেশি টাকা নেই। এই ২ হাজার টাকা এনেছিলাম..."
শহীদুল সাব ফাইলটা ঠেলে দিয়ে বলেছিলেন, "হবে না। রেট এখনফিক্সড। ১৫ হাজার লাগবে। এই ২ রেখে দিলাম। বাকি ১৩ নিয়েআসুন। তারপর ফাইল নড়বে।"
"স্যার, ১৩ হাজার টাকা জোগাড় করা আমার জন্য অনেক কঠিন..." লোকটার চোখে পানি চলে এসেছিল।
"সেটা আপনার সমস্যা। সোমবারের মধ্যে ১৩ হাজার নিয়ে আসবেন।নইলে ফাইল কিন্তু ফাইল ক্যাবিনেটেই পচে মরবে।"
সোবহান সাব মাথা নিচু করে চলে গিয়েছিলেন। যাওয়ার সময় তিনিএকবার শহীদুল সাবের দিকে তাকিয়েছিলেন। সেই দৃষ্টিতে ঘৃণা ছিল না, ছিল একরাশ অভিশাপ আর হাহাকার।
ঘটনাটা মনে পড়তেই শহীদুল সাব চমকে উঠলেন। ১৩ হাজার টাকা!
তিনি ঘড়ির দিকে তাকালেন। ১৩ সংখ্যাটা এখন আগুনের মতোজ্বলছে। তার হাতে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে কেউ গরম শিকদিয়ে তার তালু পুড়িয়ে দিচ্ছে। পোড়া মাংসের গন্ধ পেলেন তিনি।
"উহ্!" যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠলেন তিনি। হঠাৎ যেন ঘড়িটা ঢং ঢং করেবেজে উঠল। মনে হচ্ছে গির্জার ঘন্টা বাজছে। সেই ঘন্টার সুরে টিক-টিকশব্দের সাথে সাথে শোনা যাচ্ছে—"চোর... চোর... চোর..."
শহীদুল সাব কানে হাত চাপা দিলেন। কিন্তু শব্দটা বাইরে থেকে আসছেনা; আসছে তার ভেতর থেকে। শব্দ তিনি থামাতে পারছেন না।
"আমি দেব না টাকা! আমি কষ্ট করেছি, আমি কেন টাকা নেব না?" তিনিচিৎকার করে নিজেকে বোঝাতে চাইলেন।
কিন্তু ঘর কাঁপিয়ে আবার সেই ঘণ্টার শব্দ হলো। ঢং-ঢং ঢং-ঢং!
তার হাতের তালুতে মনে হলো হাজারটা সুঁই একসাথে বিঁধে গেল। তিনিযন্ত্রণায় ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লেন।
"আমাকে মাফ করে দাও!" তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন। "আমি ভুল করেছি! বাবা, আমি ভুল করেছি!"
অন্ধকার ঘরে তার চিৎকার প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে এল। কেউ নেই তাকেবাঁচানোর। টাকা, ক্ষমতা, পরিচিতি—কিছুই এখন কাজে আসছে না।শুধু একটা জং ধরা ঘড়ি তার বিচার করছে।
এই ঘড়ি হাত থেকে খোলার একটাই উপায়।
তিনি হামাগুড়ি দিয়ে উঠে বসলেন। ফোনটা খুঁজলেন। হাত কাঁপছে।সোবহান সাবের নম্বর ফাইলে থাকার কথা। কিন্তু ফাইল তো অফিসে।
তিনি পাগলের মতো ফোনবুক ঘাঁটতে লাগলেন। গত সপ্তাহের কললিস্টেহয়তো পাওয়া যাবে।
পেয়েছেন, 'Sobhan PF'।
শহীদুল সাব ডায়াল করলেন। রাত এখন তিনটা বাজে। কেউ কি ফোনধরবে?
রিং হচ্ছে। একবার... দুবার...। তার হাতের যন্ত্রণা বাড়ছে। ঘড়িটা এখনএত ভারী মনে হচ্ছে যেন তিনি আস্ত একটা পাহাড় হাতে নিয়ে বসেআছেন। হাতটা ছিঁড়ে পড়ে যাবে মনে হচ্ছে।
"হ্যালো?" ওপাশ থেকে একটা ঘুম জড়ানো, ভীত গলার আওয়াজ।
শহীদুল সাব হাঁপাচ্ছিলেন। তিনি এক দমে বলে গেলেন, "স্লামালাইকুম, সোবহান সাব? আমি শহীদুল বলছি। শহীদুল অফিসার।"
ওপাশে কেউ কিছু বলছে না। এত রাতে ঘুষের জন্য ফোন?
"শুনুন, কাল সকালে আপনি অফিসে আসবেন। আপনার কোনো টাকালাগবে না। কিচ্ছু লাগবে না। আমি কালই আপনার ফাইলে সই করেদেব। আপনার টাকা আপনি কালই পাবেন। আমাকে মাফ করবেন।প্লিজ, আমাকে মাফ করবেন।"
শহীদুল সাবের গলা ধরে এল। তিনি বুঝতে পারলেন, তিনি কাঁদছেন।কত বছর পর তিনি কাঁদলেন? শেষ কবে কেঁদেছিলেন মনে নেই।
ওপাশ থেকে সোবহান সাব বিভ্রান্ত গলায় বললেন, "স্যার? আপনি ঠিকআছেন তো?"
"আমি ঠিক আছি। আপনি আসুন। আপনার কাজ হয়ে যাবে। খোদাহাফেজ।"
ফোনটা কেটে হাত থেকে ফেলে দিলেন শহীদুল সাব। তিনি চোখ বন্ধকরে বসে রইলেন। অপেক্ষা করতে লাগলেন যন্ত্রণার জন্য।
কিন্তু যন্ত্রণাটা আর হচ্ছে না। হাতের ভারটাও কমে গেছে। তিনি ভয়েভয়ে চোখ খুললেন।
হাতের তালু একদম পরিষ্কার। কোনো ঘড়ি নেই। কোনো পোড়া দাগ নেই।চামড়া স্বাভাবিক।
মেঝের ওপরও কিছু নেই। ঘড়িটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
এসিটা অনেক ঠান্ডা লাগছে। তিনি ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২৬ করলেন।ড্রয়ার থেকে তুলতুলে কম্বলটা বের করে জড়ালেন শরীরে।
শহীদুল সাব নিজের হাতটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। এখনো হাতটাঅবশ হয়ে আছে। কিন্তু এই অবশ ভাবটা ভয়ের না, মুক্তির। তার মনেহলো, বুকের ওপর থেকে বিশাল একটা পাথর নেমে গেছে।
শহীদুল সাব আজ অফিসে এলেন বরাবর ন টায়। পিয়নরা অবাক, স্যার এত সকালে কখনো আসেন না।
তিনি সোজা নিজের ডেস্কে গিয়ে ফাইলের স্তূপ থেকে সোবহান সাবেরফাইলটা বের করলেন।
কলমটা বের করে সই করতে গিয়ে হাতটা একটু কাঁপল। সেই ১৩ হাজারটাকার লোভ। ছেলেকে কথা দিয়েছিলেন, নতুন গ্রাফিক্স কার্ড কিনেদেবেন।
কিন্তু একটু পরেই রাতের সেই অসহ্য যন্ত্রণার কথা মনে পড়ল। দ্রুত সইকরে দিলেন।
ঠিক সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে সোবহান সাব এলেন। শহীদুল সাব নিজহাতে ফাইলটা এগিয়ে দিলেন। বললেন, "চাচা, আপনার কাজ শেষ।আজই অ্যাকাউন্টস থেকে চেক নিয়ে যান। আর... দেরি হওয়ার জন্যআমি লজ্জিত।"
সোবহান সাব বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তিনি ফাইলটা বুকে জড়িয়েধরলেন। তার ঘোলাটে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। তিনি শহীদুল সাবেরহাতটা ধরে বললেন, "বাবা, আল্লাহ তোমাকে অনেক বড় করবেন।"
মুরব্বির সেই ছোঁয়ায় শহীদুল সাবের মনে হলো, গত রাতের ওই ভয়ঙ্করঠাণ্ডা ঘড়ির স্পর্শটা তিনি ভুলে যাচ্ছেন। এই হাতের ছোঁয়াটা উষ্ণ। এইছোঁয়ায় শান্তি আছে।
শহীদুল সাব হাসলেন। প্রাণখুলে হাসলেন। জানলা দিয়ে এক চিলতেরোদ এসে পড়ল তার টেবিলে।
যে-বই এখন পড়ছি
কিছু বলতে চাইলে লিখুন মন খুলে…
© ২০২৫। সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।


Book of Humour
Ruskin Bond
কী চাচ্ছিলেন?
